পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া মৌজায় জাল দলিল তৈরি করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিনের ৬ একরের বেশি জমি নিজেদের নামে মিউটেশন ও রেকর্ড করার অভিযোগে আবদুল বারেক সিকদার ও আবদুল খালেক সিকদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ১৯৬৩ সালের কথিত ৮৮৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করা হলেও দলিলে জমির পরিমাণ, দাতাদের নাম, স্বাক্ষর ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। মূল থাম বহি যাচাই করে সিআইডি নিশ্চিত হয়, প্রকৃত ৮৮৩ নম্বর দলিলের দাতা ছিলেন অন্য ব্যক্তি। তদন্ত শেষে দলিলটি জাল বলে মত দেয় সিআইডি।
সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বাদী রুহুল আমিনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে জাল দলিল তৈরি করে কোটি টাকার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া জমি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, খালেক সিকদার নিজেকে ব্যাংক এশিয়ার পরিচালক বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে ভূমি দখল, জাল দলিল প্রস্তুত ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে জাল দলিল তৈরির একটি চক্র পরিচালনার পাশাপাশি একটি ওষুধের দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায়ও হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বারেক ও খালেক সিকদার অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ